হৃদয় শীল, মধুখালী(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুর জেলার মধুখালীর বামুন্দী থেকে মেগচামী মৃধা বাজার ব্রীজ পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন সাধারন মানুষ। ধুলাবালির কারণে সড়কের পাশের এলাকাগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে।এ অবস্থায় দূষণ বন্ধের পদক্ষেপসহ সড়ক উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।

গতকাল ১২ ই মার্চ দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মধুখালীর বামুন্দী থেকে মেগচামী মৃধা বাজার ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তাটি ইটের খোয়া, বালু দিয়ে রোলার করা সড়কটি প্রতিনিয়ত ডাম্প ট্রাক, ইটভাটার গাড়ী ও ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করায় খোয়া বের হয়ে ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে। গাড়ী চলাচলে বাতাসে ধুলায় বাড়ীঘর গাছপালা ও ফসলি জমিতে আস্তরন পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং ধুলাবালিতে গাড়ী চালানোর সময় পুরো রাস্তার পাশে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, ডিডি আই আর ডাব্লিউ এসপি প্রকল্পের অধীনে মধুখালীর বামুন্দী থেকে মেগচামী শেষ বালিয়াকান্দি উপজেলা নমপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত ৫.৯৮ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয় গত ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারীতে। ৬ কোটি ৩২ লক্ষ্য ৭৯ হাজার ৭৯১ টাকা চুক্তিমুল্যে কাজটি করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোঃ ইমতিয়াজ হাসিব মা ইন্জিনিয়ারিং জেবি। ৩০ জুন ২০২২ তারিখ পর্যন্ত কাজ সম্পূর্ণের মেয়াদ রয়েছে।

ধুলাবালির বিষয়ে বামুন্দী গ্রামের আব্দুল হালিম মাষ্টার জানান, গত বছরে ইট খোয়া দিয়ে রাস্তা রোলার করে রেখেছে কতৃপক্ষ যথাসময়ে ঢালায় কাজ সম্পুর্ন না করায় ধুলাবালি ব্যাপক বেড়ে যাচ্ছে এতে চারপাশে পরিবেশসহ ফসল গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত দূর্ভোগে পড়চ্ছে। আমরা চায় দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হোক। রাস্তার আশেপাশের মৃধা বাজার চা দোকানদার হোসেন শেখ, বোর্ড অফিস বাজার মুদি দোকানদার ইমামুল শেখ, বিড়ালিয়া বাজার শিমুল বলেন, এই রাস্তার ধুলাবালির কারণে আমাদের দোকান খোলা রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে গাড়ী চলাচলের সময় ধুলায় দোকান ময়লায় ভরে যায়, ধুলা থেকে বাঁচতে আমাদের দোকানের সামনের রাস্তায় পানি দিয়ে ধুলা কমিয়ে রাখতে হয়। এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম জানান, ধুলাবালি মানব দেহে হাঁপানী, শ্বাসকষ্ট, এজম্যা, এলার্জি রোগের সৃষ্টি করে দীর্ঘমেয়াদী করে তোলে, ফুসফুসের কার্যক্রম ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

রাস্তায় কাজের ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইমতিয়াজ হাসিবের সহকারী ম্যানেজার সিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজ করবো তবে মালামাল পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে অল্পদিনের মধ্যে কাজ করবো। মধুখালী উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠিয়েছি তারা আমাকে এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।